Published : 20 Aug 2026, 03:16 AM
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর গল্পের পটভূমিতে তৈরি বাংলা নাটক 'ডিটেকটিভ' মেলবোর্নের মঞ্চে এক নতুন আলো ছড়াল। পাঁচ মাসের নিবিড় প্রস্তুতি, প্রবাসী নাট্যশিল্পীদের সম্মিলিত স্বপ্ন এবং সাংস্কৃতিক চেতনার এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই প্রযোজনাটি ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারের দর্শকদের মন জয় করে। মানুষের কল্পনাপ্রবণতা ও পেশাগত আচ্ছন্নতার গভীরে প্রবেশ করে যে গল্পটি এই নাটকটি তুলে ধরেছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে ভাবিয়েছে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে বাংলা নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকটিতে মানুষের অতি কল্পনা, পেশাগত মোহ এবং বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার এক মনোমুগ্ধকর কাহিনি নিহিত। এই সৃষ্টি পরিচালনা করেছেন খাদিজা বীথি, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি মেলবোর্নের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয়। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও পাঁচ মাস ধরে কঠোর মহড়ার মাধ্যমে তাঁরা নাটকটিকে মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করেন। এতে অভিনয় করেছেন পঁচিশ জন শিল্পী এবং আরও পঁয়তাল্লিশ জন নেপথ্য কর্মী, যেখানে মঞ্চসজ্জা, পোশাক, আবহসংগীত ও আলোক পরিকল্পনায় স্থানীয় শিল্পীরাও অংশ নেন।
প্রবাসে নাটকের অভিজ্ঞতা নিয়ে খাদিজা বীথি বলেন, ‘মেলবোর্নে নাটক মানে এক রাতের কাজ নয়; এর পেছনে অনেক দিনের সাধনা থাকে। এই কাজটি আমরা পাঁচ মাস ধরে করেছি এবং রবীন্দ্রনাথের গল্পটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’ ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে অ্যাক্টোম্যানিয়া দলটির দশম প্রযোজনা হিসেবে 'ডিটেকটিভ' মঞ্চস্থ হয়। জ্যেষ্ঠ সদস্য তরুণ ভট্টাচার্য জানান, ‘প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কলাকুশলীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। নতুনদের সুযোগ দিয়ে আমরা নতুন প্রতিভা গড়ে তুলছি এবং অভিনয়ের মাধ্যমে মৈত্রী ও দক্ষতা বৃদ্ধি করছি।’ এর আগে খাদিজা বীথির পরিচালনায় হুমায়ূন আহমেদের 'আজ রবিবার' মঞ্চস্থ হয়েছিল, যেখানে তরুণ ভট্টাচার্য 'দাদাজান'-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতার পরবর্তী প্রযোজনাটিও দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছে।’ দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল উষ্ণ। লেখক দিলরুবা শাহানা মন্তব্য করেন, ‘মেলবোর্নে অ্যাক্টোম্যানিয়ার ডিটেকটিভ দেখে আমি মুগ্ধ।
প্রবাসী নতুনদের অভিনয় ছিল অসাধারণ। আমাদের সংস্কৃতি বিদেশের মাটিতেও এভাবে প্রাণবন্তভাবে বেঁচে আছে, তা ভেবে আনন্দ হয়।’ দীর্ঘদিনের মেলবোর্নপ্রবাসের অধ্যাপক লুৎফর রহমান খানও নাটকটির নির্মাণশৈলী ও অভিনেতাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এত বছর পর মেলবোর্নে এমন নিখাদ বাংলা নাটক উপভোগ করা সত্যিই এক বিরাট প্রাপ্তি।’ পাঁচ মাসের নিবিড় প্রচেষ্টা এবং বহু শিল্পীর সম্মিলিত ত্যাগে মঞ্চে এসেছে 'ডিটেকটিভ'। ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে উপস্থিত দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, হাজার কিলোমিটার দূরেও বাংলা নাটকের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ আজও অমলিন।।