Published : 20 Jul 2026, 05:14 AM
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এক বিচারকের স্বাক্ষর ও অফিস সীল জাল করে একটি মিথ্যা হলফনামা তৈরি করার অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। মামলার এজাহারে মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলামসহ (তরু) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, মামলাটি সন্ধ্যার মধ্যেই নথিভুক্ত করা হয়েছে। উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামে এক দম্পতির বিবাহের হলফনামা আদালতের সংরক্ষিত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
যাচাই করে দেখা যায়, এই হলফনামাটি সম্পূর্ণ জাল। এই নথিতে উল্লিখিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ৩০ নম্বর স্মারকে আসলে মো. জাফরুল ইসলাম নামের অন্য এক ব্যক্তির হলফনামা নথিভুক্ত ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সীল জাল করে এই প্রতারণামূলক নথিটি তৈরি করেন। এরপর এই জাল নথি ব্যবহার করে বরগুনার বামনা আমলি আদালতে একটি সিআর (নালিশি) মামলা করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আদালতের নাম, বিচারকের স্বাক্ষর ও সীল জাল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে তারা প্রতারণার অপরাধ করেছেন।
এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১০৯ ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। মামলার বাদী খালিদ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, আসামিরা ১১ নম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সীল ও স্বাক্ষর জাল করে হলফনামা তৈরি করেছেন। আদালতে যাচাই-বাছাই করার সময় দেখা যায়, নথিটি অন্য কারো নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।।