Published : 10 May 2026, 05:07 PM
চট্টগ্রামে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন নামের এক দুষ্কৃতিকারী গতকাল শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থকে এই হুমকি দেয়। বিপ্লব দে পার্থ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি এই ঘটনায় নগরের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। হুমকিদাতা মোবারক হোসেন ওরফে ইমন, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক অডিও বার্তায় মোবারক হোসেন সাংবাদিক বিপ্লবকে বলেন, “…তোমাদের বোলতার বাসা বানিয়ে দেব। এমনভাবে গুলি করব, পরিবারও লাশ গুনতে পারবে না। যা করার, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করে ফেলো। গুলি মানুষ চেনে না।
” জানতে চাইলে বিপ্লব দে পার্থ প্রথম আলোকে জানান, “সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ইমন নামের এক ব্যক্তি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে। প্রথমে সে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা চায়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে আমাকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা পাঠিয়ে হুমকি দেয়।” কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, “চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।” মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন, এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। মোবারক হোসেনের কাছে অন্তত ১৫-২০টি অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং সে অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ।
জোড়া খুনের ঘটনায় সে সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে সক্রিয় রয়েছেন অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানালেও তাদের নাগাল পাওয়া কঠিন।।