Published : 20 Aug 2026, 07:16 PM
দেশের উদীয়মান প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ বা স্টার্টআপগুলোর জন্য অর্থায়নের পথ প্রশস্ত করতে বিশেষায়িত সংস্থা ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (বিএসআইসি) তার যাত্রা শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৩৯টি ব্যাংকের সম্মিলিত উদ্যোগে গঠিত হয়েছে, যা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে নতুন মাত্রা দেবে। বিএসআইসির পরিচালনা পর্ষদে দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি রয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ওয়াইজ রহিমকে। ওয়াইজ রহিমের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিএসআইসিতে যোগদানের আগে তিনি লন্ডনভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান স্টারজন ক্যাপিটালে বাংলাদেশ অংশের ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রতিষ্ঠানে মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ পরিচালনা করা হয়।
বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিতকরণ, যাচাই এবং পোর্টফোলিও উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০১৭ সালে ওয়াইজ রহিম ‘ডেলিগ্রাম’ নামের একটি ওমনিচ্যানেল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মুদিদোকানগুলোকে ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করা। সিঙ্গাপুর ও নিউইয়র্কের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তিনি ২৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন উল্লেখ করেছেন, ‘ওয়াইজ রহিমের মধ্যে ভেঞ্চার বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা, উদ্যোক্তাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতার এক অসাধারণ সমন্বয় রয়েছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে বিএসআইসি গঠিত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন স্টার্টআপগুলোর জন্য দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন সংগ্রহ করা এবং দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা।
কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম তহবিল ‘অঙ্কুর’ চালু করেছে, যার পরিমাণ ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা। এই তহবিল দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করবে। আশা করা হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে এই তহবিলের আকার এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুসারে, দেশের ব্যাংকগুলোকে তাদের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ এই স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে।।