Published : 20 Aug 2026, 04:16 PM
ভারতের কলকাতা শহরে এক হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। নিহতদের নাম আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং রেবতী সরকার (৩৫)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এই দুই ব্যক্তি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের পুত্র এবং তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তার নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমর ব্যথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যান এবং বুধবার সন্ধ্যায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে হোটেলের আগুনে তাঁর মৃত্যু হয়। সাজুর বড় ভাই সাহেব আলী সরদার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ভাইয়ের খোঁজ নিতে ফোন করলে কলকাতার একটি থানা থেকে পুলিশ সদস্য ফোন রিসিভ করেন এবং নিশ্চিত হন যে অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন।
ছবি দেখে পরিবার পরিচয় নিশ্চিত করে। সাজুর বড় ভাবি তানিজা আক্তার জানান, সাজু অবিবাহিত ছিলেন এবং হজ পালনের পর থেকেই তিনি নির্জনে জীবনযাপন করতেন। তিনি দ্রুত সাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত রেবতী সরকার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রেবতী ১১ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন এবং তার স্বামী ভবেশ সরকার ইটভাটার শ্রমিক। তাদের ছোট ভাই তপন সরকার জানান, ফোন কলের মাধ্যমে তারা রেবতীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজ ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। সংবাদপত্র ও মিডিয়ার সূত্রে জানা গেছে, এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে সাতক্ষীরার দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনও রয়েছেন— দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়াও ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০) এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্য দুইজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।।