Published : 20 Aug 2026, 01:16 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানকে সাহায্যকারী বা তার সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর 'ভয়াবহ' অর্থনৈতিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এই নতুন অভিযানে ইরানের অর্থনীতিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুদ্ধ ছয় মাস ধরে চলছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরেও কোনো সমাধান মেলেনি। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে এখনও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে, নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে, কারণ যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর জন্য মার্কিন ভোক্তারা জর্জরিত।
এছাড়াও, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ায় ট্রাম্প দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' ট্রাম্প এই হুমকি দেন, 'আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং একঘরে অবস্থার সৃষ্টি।' ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংস্থা, বিমানবন্দর বা সরকারি কাঠামো ইরানের প্রতি যেকোনো ধরনের সহায়তা দেবে, সেই দেশগুলোরই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলেননি কোন দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপের তালিকা দিয়েছেন যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন: যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ নিঃস্ব, তবুও টিকে আছে ইরানের অর্থনীতি এই পরিস্থিতিতে, গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন যে মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করবে—যা একটি দ্বিমুখী কৌশলের অংশ হবে। রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে বেসেন্ট আরও বলেন, 'এটি এমন এক সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।' মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) বেশ কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি' নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের অর্থায়নের পথ বন্ধ করা। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের 'পা ভেঙে' দেওয়ার হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের বক্তব্য।