Published : 09 Aug 2026, 04:17 PM
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে 'সায়েন্স টয়' (বিজ্ঞান খেলনা) বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের কেবল বই পড়ে নয়, হাতে-কলমে কাজ করে এবং খেলার ছলে বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এই লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে এই ধরনের শিক্ষামূলক উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত 'ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার'-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, নকশা এবং সৃজনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক ও বাস্তবভিত্তিক করতে পাঠ্যক্রমের মধ্যে 'সায়েন্স টয়' এবং অন্যান্য হাতে-কলমে শেখার উপকরণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর পাশাপাশি, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে 'ম্যাথ ল্যাব'-এর সূচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন উপকরণের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ ও যোগ-বিয়োগের মতো গণিতের মৌলিক ধারণাগুলি হাতে-কলমে শিখতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের যে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য মৌলিক পঠন, লিখন এবং গাণিতিক দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করেন যে উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও যদি এই ভিত্তিগত শিক্ষা দুর্বল থাকে, তবে তা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সরকার বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো এই বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও তিনি জানান। মিড-ডে মিল কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্পের সময় যে ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জোর দেন যে কোনো প্রকল্পের সফলতা কেবল কতজন মানুষের কাছে পৌঁছাল তার ওপর নির্ভর করে না, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্প কেবল তাত্ত্বিক দর্শননির্ভর না হয়ে অবশ্যই অপারেশনাল ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন বজায় থাকবে, কিন্তু সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য। তিনি নিশ্চিত করেন যে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি হচ্ছে এবং কীভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।।
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি: ন্যাটোর সমতুল্য, এক দেশের ওপর হামলা মানে সকলের ওপর আঘাত