Published : 09 Aug 2026, 01:16 AM
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তেরো বছরেও অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ার বিষয়টি বিচার ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ত্বকী হত্যার বিচার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। সরকারের পরিবর্তন সত্ত্বেও বিচার ব্যবস্থায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। একটি সভ্য সমাজ কি নীরবে ন্যায়বিচারের জন্য কাঁদে না? এই প্রশ্ন উত্থাপন করে রফিউর রাব্বি। শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকীর হত্যার ১৬১ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচি পালন করে আসছে।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর এবং সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শিশুসংগঠক রথীন চক্রবর্তী, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, বাসদের জেলা সদস্যসচিব আবু নাইম খান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা এবং গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাসও বক্তব্য দেন। রাব্বি আরও বলেন, হত্যার এক বছরের মধ্যেই তদন্ত সংস্থা র্যাব অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার দাবি করলেও তা আজও হয়নি। দুটি সরকারের পালাবদল সত্ত্বেও তদন্ত শেষ হয়নি এবং বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানে ছাত্ররা ন্যায়বিচারের দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিল; কিন্তু সেই দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ত্বকী, সাগর-রুনি এবং তনুসহ সকল নিহতদের বিচার চাই। চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদদের জীবন দেওয়ার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের বিচারও চাই।
একটি সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদতে পারে না।’ উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের নির্যাতন সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছিল এবং তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই দাবি আজও আদালতের সামনে আসেনি।।
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি: ন্যাটোর সমতুল্য, এক দেশের ওপর হামলা মানে সকলের ওপর আঘাত