Published : 03 Aug 2026, 01:16 AM
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের দুটি জনপ্রিয় পারফরম্যান্সের ভিডিও সরিয়ে ফেলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভক্তরা প্রশ্ন তুলেছে, আগামী বছরের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই কেন এই ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়া হলো? তবে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক রেকর্ডিং একাডেমি এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। গ্র্যামির ওয়েবসাইটে বিটিএসের ২০২১ সালের ‘ডায়নামাইট’ এবং ২০২২ সালের ‘বাটার’ গানের সরাসরি পরিবেশনার ফুটেজ এখন আর দেখা যাচ্ছে না। যদিও এই ভিডিওগুলি বিটিএসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে বিদ্যমান। গত ২৯ জুলাই সাত সদস্যের বিটিএস যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায় যে, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তারা কোনো গান জমা দেবে না। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা আসন্ন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই, ভাষা বা অঞ্চল নয়, কেবল সঙ্গীতের নিজস্ব গুণেই তার মূল্যায়ন হোক।
’ অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে রেকর্ডিং একাডেমির নতুন চালু করা ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ বিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। এই বিভাগে মনোনয়নের জন্য গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর অধিকাংশ গান যেহেতু ইংরেজিতে, তাই এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এই নিয়মের কারণে এশীয় শিল্পীরা ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর মতো মূল বিভাগে প্রতিযোগিতার সুযোগ হারাতে পারেন। এই বিতর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিটিএসের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেমন হুন্দাই কার্ডের প্রধান নির্বাহী টেড চুং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এশীয় শিল্পীদের কি আলাদা করে রাখা হচ্ছে? তাহলে ব্যাড বানি বা রিকি মার্টিনের মতো শিল্পীদেরও কি শুধু লাতিন সংগীত বিভাগে রাখা উচিত? ভাষার ভিত্তিতে সঙ্গীতকে ভাগ করার এমন উদাহরণ আমি জানি না।’ রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র অবশ্য বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের সিদ্ধান্তে আমি দুঃখিত। তবে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে আমি সেটিকে সম্মান করি।’ তাঁর দাবি, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছে। তবে সংগীত-সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বিভাগ তৈরি করলে অপাশ্চাত্য শিল্পীরা মূলধারার স্বীকৃতি পাওয়ার বদলে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই আটকে যেতে পারেন।।