Published : 02 Aug 2026, 11:16 PM
ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আসা এক কারাবন্দী আসামির জন্য তাঁর স্বজন খাবার হিসেবে পাউরুটির ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিলেন গাঁজা। এই ঘটনা সামনে আসার পর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে পাউরুটির ভেতর থেকে দুই পুরিয়া গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করে। হাজতখানায় নেওয়ার আগে নিয়মিত তল্লাশির সময় এই অবৈধ মাদক পাওয়া যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার জন্য আদালত চত্বরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আরিফুল ইসলামের আদালতে আসামি মো. মামুনকে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে এই বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, শুনানি শেষ করে মামুনকে হাজতখানায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় আদালত এলাকায় তাঁর এক আত্মীয় খাবার হিসেবে পাউরুটির প্যাকেট দেন। সন্দেহ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসকর্ট কনস্টেবল মো. শাহেদ তল্লাশি শুরু করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পাউরুটির ভেতর থেকে কাগজে মোড়ানো দুই পুরিয়া গাঁজা খুঁজে পাওয়া যায়। ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে জানান, আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামির স্বজনেরা খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যদিও প্রথমে কনস্টেবল রাজি হননি, মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি একটি পাউরুটি গ্রহণ করেন। প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে পুনরায় পরীক্ষা করার সময় পাউরুটির মধ্যে একটি ছোট ছিদ্র চোখে পড়ে। খুঁটিয়ে দেখার পর ভেতর থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনাটি বেলা তিনটার পরে ঘটে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, খাবারটি কে দিয়েছিল, তাকে শনাক্ত করতে আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে মামুন কোন মামলায় কারাগারে আছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে এই ঘটনায় জিডি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।।