Published : 01 Aug 2026, 01:24 AM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী শিশুদের জন্য এক বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছে। আগামী ১ থেকে ৪ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে এই জমকালো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এই তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সিবগাতুল্লাহ বলেন, এবারের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র এবং ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রদর্শনীও থাকছে। মঞ্চনাটক ও আবৃত্তির মাধ্যমে এই উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে, যেখানে শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। গতবারের মতো এবারও ‘আয়নাঘর’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে, যা আরও বিস্তৃত ও গভীর অর্থ বহন করবে।
শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘কিডস জোন’ থাকবে, যেখানে তারা অবাধে খেলাধুলা করতে পারবে। প্রতিদিন বিকেল থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারা অব্যাহত থাকবে। ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের স্থানগুলো নিয়ে ‘মিনিয়েচার জোন’ তৈরি করা হবে, এবং স্মৃতি ও শ্রদ্ধার নিবেদনের জন্য একটি ‘কবরস্থান কর্নার’ রাখা হবে। এছাড়াও, শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ ‘জুলাই বায়োস্কোপ’। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে ‘জুলাইয়ের ধ্বংসযজ্ঞ প্রদর্শনী’ এবং ‘বখতিয়ার থেকে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর মাধ্যমে অতীতের স্মৃতিচারণ করা হবে। ‘আইকনিক কর্নার’-এ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অসংখ্য শহীদের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যারেকচারের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে শিশুদের অবদান, তাদের ত্যাগ এবং সেই স্মৃতিকে জাতির সামনে প্রতিষ্ঠা করা।
শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের চোখে দেখা জুলাইয়ের গল্প, তাদের স্বপ্ন, সাহস ও আত্মত্যাগের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। sিবগাতুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। একই সাথে দেশের নিজস্ব বিশ্বাস, হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুস্থ ও স্বকীয় সাংস্কৃতিক ধারা বজায় রাখা ছিল সেই লক্ষ্যের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। বরং পুরোনো সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বিভিন্ন চক্রান্ত ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অর্জনকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে এবং ফ্যাসিবাদী বয়ান পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।।
মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের মরিয়া চেষ্টা: পথেই প্রাণ গেল ৩৪ অভিবাসীর