Published : 01 Aug 2026, 01:21 AM
সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে প্রতারণা করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা সিআইডি সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযানে সিআইডির নোয়াখালী ইউনিট এই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর অঞ্চল-২ কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নূরুন্নবী এবং মো. সোহেল। এদের মধ্যে জুলফিকার আলীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীনে ‘কর অঞ্চল-নোয়াখালী’র গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার পর প্রাথমিকভাবে ১১২ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ ২১ জুন চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেয়। নিয়োগের সময় অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহর নথি যাচাই করা হয়। এই সময়ে তাদের মূল আবেদনপত্রের হাতের লেখা এবং মৌখিক পরীক্ষার চেকলিস্টের লেখার মধ্যে স্পষ্ট অমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে যখন তাদের একই লেখা পুনরায় লিখতে বলা হয়, তখন জালিয়াতি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। জিজ্ঞাসাবাদে কামাল উদ্দিন ও নাসফুরুল্লাহ স্বীকার করেন যে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি; বরং প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমে পাশ করানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২২ জুন কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় মো. সুজন নামের আরও এক প্রার্থীর হাতের লেখাতেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়, এবং এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন নামে এক প্রার্থী কৌশলে পালিয়ে যায়।
সুজনও স্বীকার করেন যে তিনি প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পাস করার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় নোয়াখালীর সুধারাম থানায় মামলা দায়ের হলে সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এর তদন্তভার গ্রহণ করে। সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ প্রদানের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জাল বিস্তার করেছিল। এই জালিয়াতির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের মাতারবাড়ী থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় জুলফিকারকে এবং আগ্রাবাদ কর কার্যালয় থেকে নূরুন্নবী ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জড়িত বাকিদের খুঁজে বের করার জন্য সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।।
মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের মরিয়া চেষ্টা: পথেই প্রাণ গেল ৩৪ অভিবাসীর