Published : 31 Jul 2026, 11:16 PM
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন যে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার এবং সংসদ উভয় অঙ্গ থেকেই এই সংস্কারের কাজ অব্যাহত থাকবে। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন। তিনি আরও জানান, সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী ৪ তারিখ (আগস্ট) থেকে গঠিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৩১ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সনদকে কার্যকর করা সম্ভব। তাঁর মতে, ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব এবং এই ৩১ দফার লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত করে। এই সংস্কারের মাধ্যমেই বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী নতুন ফ্যাসিবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ হয়তো বিদায় নিয়েছে, কিন্তু ধর্ম বা নিজস্ব পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তারা ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে কোনোভাবেই এই ধরনের উসকানির মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। ধর্ম, লিঙ্গ বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে কারো অধিকার হরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের পরোক্ষ উস্কানি থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ‘এক নাগরিক, এক নম্বর’ নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে; এ বছর প্রথম ধাপে শিক্ষায় ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যে ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সময়ে আর্থিক খাত ধ্বংস করে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।
এখন সেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব নীতি তৈরি করা হচ্ছে। সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের তিনটি দায়িত্ব দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আনা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষ হতাশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানালেও তা এখনো গঠিত হয়নি। এছাড়াও নারী ও শিক্ষাসংক্রান্ত সংস্কারের উদ্যোগগুলো বিভিন্ন বিরোধিতার কারণে থমকে আছে। এই গণসমাবেশে গণসংহতি আন্দোলন ও ছাত্র ফেডারেশনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।।
কলম্বিয়ার ধ্বংসস্তূপের গভীরে ফিসফিসানি শুনে উদ্ধার হলো শিশু ও এক ব্যক্তির জীবন