Published : 31 Jul 2026, 07:16 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, সম্প্রতি দায়ের করা পাল্টা মামলাগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশেই হয়েছে। আজ শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। পাটওয়ারীর দাবি, যারা তাদের ওপর অত্যাচার করেছে, তারা তা সহ্য করেনি; বরং তারাই শিকার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সমস্ত আইনি পদক্ষেপ তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, জি কে গউস এবং তারেক রহমানের অনুসারীদের একটি চক্র চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং সেই অর্থ গুলশান অফিসে জমা দেয়। পাটওয়ারী এই কার্যকলাপের জন্য তারেক রহমানের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযোগ করেন যে তিনি ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখছেন না। ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও গভীর।
গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির পর এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এই হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এনসিপি অভিযোগ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার রাতে জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর কিছুদিন পরই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (রুকন)। এই মামলায় হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কার ফোন? আইফোন? তারেক রহমানের কি আইফোন ছিল নাকি? এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তারা যা করছে, তারেক রহমান বাংলাদেশে যা করছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য চরম অপসংস্কৃতি।
’ তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই ঘটনায় ‘তারেক রহমান ও বিএনপির মানসম্মান ছিনতাই হয়েছে’। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। তিনি স্বীকার করেন যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং বলেন, ‘ছিনতাইটা তারেক রহমান ও বিএনপির মানসম্মানের ওপর আঘাত।’ তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের এই কার্যকলাপ তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। তিনি মনে করেন, যারা মামলা লিখতে বাধ্য করেছে, তারা হয়তো মনে মনে কাউকে গালি দিচ্ছিল।।