Published : 18 Jul 2026, 09:16 AM
বর্ষার পর বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধান চাষের মরসুম শুরু হয়েছে, আর এই সময় কৃষকরা এক নতুন পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন। জমি সমতল করার জন্য কলের লাঙলের পাশাপাশি এখন প্রয়োজন হচ্ছে শক্তিশালী মই টানার শক্তি, যা পূরণের জন্য তারা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ভাড়া করে এনেছেন। গরু আর গৃহস্থের বাড়িতে এখন আর সহজলভ্য না হওয়ায় এই অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চাষিরা এবার এই প্রয়োজনে নাটোরের সিংড়া থেকে ঘোড়া ভাড়া করেছেন। শুক্রবার বিকেলে গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুর গ্রামের মাঠে এই দৃশ্য চোখে পড়ে, যেখানে ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দেওয়া হচ্ছে। ঘোড়ার মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রামে প্রতিদিন অন্তত ২০ বিঘা জমিতে মই দেওয়ার জন্য চারটি ঘোড়া ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ঘোড়ার মালিকদের মধ্যে একজন, সেলিম হোসেন, জানিয়েছেন যে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘোড়া ভাড়া দেন। তিনি বলেন, অন্যান্য ঘোড়ার মালিকদের সাথে মিলে তারা চাষের জমিতে জল দেওয়ার পর মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করেন। এই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, দুটি ঘোড়া একসঙ্গে কাজ করে, যেখানে মইয়ের সাথে একটি হাতলের মতো অংশ যুক্ত থাকে, যা উঁচু-নিচু জমি সমান করতে সাহায্য করে।
সেলিম হোসেনের মতে, এই পদ্ধতিতে একজোড়া ঘোড়া দিয়ে দিনে ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে মই দেওয়া সম্ভব। এই কাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার ট্রাক্টরচালক মাহাবুবুর রহমান এই ভিডিও দেখে যোগাযোগ করেন। গত বছর যে ট্রাক্টরচালক প্রথম গোদাগাড়ীতে এসেছিলেন, এবারও তিনি এসেছেন। শুক্রবার তারা ২১ বিঘা জমিতে মই দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। সেলিম হোসেন আরও জানান, তাঁর দুটি ঘোড়ার মধ্যে একটি অত্যন্ত সুন্দর, ধবধবে সাদা রঙের। তিনি বলেন, কাদার মধ্যে ঘোড়া হাঁ করলে গায়ের রং নষ্ট হয় এবং দৌড়ও কমে যায়, তাই সেই ঘোড়া মইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয় না। তিনি তাঁর প্রতিবেশী শফিকের সাথে মিলে একটি মই তৈরি করেছেন এবং আমিরুল ও আল আমিনের সাহায্যে আরও একটি মই তৈরি হয়েছে। দুপুরের সময় চৈতন্যপুর গ্রামের ওবায়দুলের আড়াই বিঘা জমিতে মই দেওয়ার কাজ চলছিল।
জমির মালিকের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ট্রাক্টরের মালিক মাহাবুবুর রহমানের। ঘোড়ার মালিকেরা রাতে থাকার জন্য ইটের ভাটার পরিত্যক্ত দুটি ঘর দুই হাজার টাকা ভাড়া নিয়েছেন এবং আরও প্রায় পনেরো দিন সেখানে অবস্থান করবেন। সেলিম হোসেন জানান, এই স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া বেশি মনে হলেও, চার ঘোড়ার খাবার ও থাকার জন্য দুটি ঘর না থাকলে এই ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। প্রথম দিনেই তিনি অগ্রিম টাকা দাবি করেছিলেন, কিন্তু কাজ না করলে তা দিতে পারতেন না। ঘোড়ার মালিক আল আমিন আরও জানান, তারা শুধু ধান চাষের জমিতেই মই দেন না; আলু তোলার সময় বগুড়ায় যান এবং অন্য ফসলের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। তাদের গ্রামে প্রায় বিশটি ঘোড়া রয়েছে, যারা গাড়ি টানা এবং জমিতে মই টানার কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে চলনবিল এলাকায় ঘোড়ার কোনো নির্দিষ্ট কাজ নেই, তাই তারা এই অঞ্চলে এসেছেন। এছাড়াও তারা ঘোড়দৌড়ের সময় ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেও আগ্রহী।।
ক্ষমতার ভার হাতে নিতেই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী: 'আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে'