Published : 17 Jul 2026, 06:02 AM
বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন ও সুসংগঠিত পথরেখা তৈরি করেছে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোনে (এফটিজেড) আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিস্তারিত নীতি-কাঠামো ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন কাঠামোটির প্রধান লক্ষ্য হলো লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও বিচক্ষণ করে পরিচালনা করা। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জারি করে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে (এডি ব্যাংক) পাঠানো হয়েছে। এই নতুন নিয়মের অধীনে, প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা মেনে এডি ব্যাংক এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো (ওবিইউ) মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে। এই সুবিধার আওতায় যেসব আমদানিকারক অন্তর্ভুক্ত, তাদের মধ্যে রয়েছে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান, ট্রেডিং পরিচালনার জন্য অনুমোদিত আমদানিকারক (ইম্পোর্টার অন রেকর্ড) এবং লজিস্টিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। এই কাঠামোর একটি বিশেষ দিক হলো চালান-ভিত্তিক আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ হলো, পণ্যটি উৎপাদন বা বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হওয়া পর্যন্ত তার চূড়ান্ত মালিকানা বিদেশী সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে। মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগে ব্যাংকগুলো এই পণ্যগুলোকে ইনভেন্টরি বা মজুদ হিসেবে গণ্য করবে না এবং এর কোনো আর্থিক দায় বা ঝুঁকি গ্রহণ করবে না। এফটিজেড সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যেখানে দেশীয় বা অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের কেনাকাটাকে 'আমদানি' হিসেবে ধরা হবে, সেখানে এফটিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রিকে বিক্রেতার জন্য 'রপ্তানি' এবং ক্রেতার জন্য 'আমদানি' হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইএক্সপি এবং আইএমপি পদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সব ধরনের মূল্য পরিশোধ অবশ্যই অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন করতে হবে। সময়সীমার ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা হয়েছে, চালানের আওতাভুক্ত পণ্যগুলো সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত ফ্রি ট্রেড জোনে রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, বায়ার্স ক্রেডিট ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটসহ মেয়াদি আমদানির সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থায়নের সুবিধার্থে এডি ব্যাংকগুলো বিশেষায়িত অঞ্চলের মতো করে অর্থায়ন সুবিধা দিতে পারবে, এবং ওবিইউ বা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন প্রদান করতে সক্ষম হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এফটিজেডের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনার এই নতুন সুযোগ দেশীয় উৎপাদনকারী শিল্প ও রপ্তানিকারকদের আরও শক্তিশালী করবে। এটি তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক বিশাল ভূমিকা রাখবে।।
সম্প্রচার না করায় এনবিসি ও এবিসি-র লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের