Published : 15 Jul 2026, 11:17 PM
বাংলাদেশে বায়ু দূষণের কারণে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই ক্ষতি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান। একই সাথে, এই দূষণের শিকার হয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, প্রতি বছর প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধীনস্থ ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (সি-টু-এএইচআর)’ ইউনিটের একটি গবেষণা। এই গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা দলটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের বায়ু দূষণের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল উপস্থাপন করেছে।
গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, কনসেনট্রেশন রেসপন্স ফাংশন (সিআরএফ) পদ্ধতি ব্যবহার করে এটি সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতি পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব গবেষণায় বহুল ব্যবহৃত একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্ক, যা দেখায় কোনো দূষকের মাত্রা পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যগত ফলাফলে কী পরিবর্তন আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে হৃদরোগে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এই দূষণজনিত অকালমৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদরোগে মারা গেছেন। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ৮১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জন বায়ু দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১১ হাজার ২০২, রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ এবং বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জন অকালমৃত্যু ঘটেছে। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ছয়টি শহরে বায়ু দূষণজনিত অকালমৃত্যুর প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ‘নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা’ সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রায়শই বায়ু দূষণকে কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এর ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। এটি নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।’ গবেষণা আরও সুপারিশ করে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ু গুণগত মান সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চললে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। এর জন্য পিএম২.৫ নির্গমন কমানো, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং নগরে সমন্বিত বায়ু ব্যবস্থাপনা জোরদার করার প্রয়োজন।।
স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত 'হাডসন অলৌকিক ঘটনা'-র পাইলট সালি: সাহসের এক নতুন গল্প