Published : 09 Jul 2026, 04:29 AM
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এএএনআই জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই পরিকল্পনার জন্য চীন থেকে কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনায় এই তথ্য প্রদান করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা সহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন কবলিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোয় চরম দুর্দশার শিকার হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সাথে, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। চীন সফরের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছেন। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কাসহ বিভিন্ন বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি অপরিহার্য।
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি নিশ্চিত করা হবে। বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে দেশের মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে।।