Published : 09 Jul 2026, 04:24 AM
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এএএনআই জানিয়েছেন যে, বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই শুরু হতে চলেছে। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে এই সহযোগিতা নিশ্চিত হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনায় মন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, "তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা সহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন কবলিত মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছে এবং তারা চরম দুর্দশার শিকার। এই সংকট নিরসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট।" তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সাথে, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই এই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে। চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।" ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, "ফারাক্কাসহ বিভিন্ন বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।" মন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি নিশ্চিত করা হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে দেশের মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে।"।
কাতারে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের দাবি ট্রাম্পের, কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো ইঙ্গিত নেই