Published : 08 Jul 2026, 10:45 PM
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সঙ্গীত এবং চিন্তাধারার গভীরতাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকার জার্মান সংস্কৃতিকেন্দ্রে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘ফ্রম দ্য মেমোরি লেন—রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক জার্মানি ভ্রমণ’। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি বীণার স্নিগ্ধ সুর দিয়ে শুরু হয়। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জার্মানি ভ্রমণের স্মৃতিচারণামূলক ভিডিও চিত্র দর্শকদের সামনে পেশ করা হয়। এই ভিডিওগুলিতে ১৯২১, ১৯২৬ এবং ১৯৩০ সালে তাঁর জার্মানি সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত এবং বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ফুটে উঠেছে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে জার্মান ভাষায় ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ গানটি গায় পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ভার্নার। রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সঞ্চিতা রাখির কণ্ঠে শুরু হয় এই সুরের এক অসাধারণ পরিবেশনা। তিনি পরিবেশন করেন ‘মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি’, ‘সে কোন পাগল যায় পথে তোর’, ‘কার চোখের চাওয়ার হাওয়ায় দোলায় মন’ সহ আরও বহু মন ছুঁয়ে যাওয়া গান। আয়োজকরা জানান, এই আয়োজনটি রবীন্দ্রনাথের জার্মানির সঙ্গে সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক সংযোগ, তাঁর সাহিত্যচিন্তা এবং বিশ্বমানবতার দর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বসংস্কৃতির বৃহত্তর পরিসরে এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সংগীত পরিবেশনার শেষে সঞ্চিতা রাখি বলেন, ‘এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কেবল নোবেলজয়ী হিসেবেই নয়; সংস্কৃতি, শিক্ষা, শিল্প ও বিশ্বমানবতার এক উজ্জ্বল দূত হিসেবে স্মরণ করি।
’ অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে গ্যেটে ইনস্টিটিউট ঢাকার পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ভার্নার বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও গ্যেটে ভিন্ন সংস্কৃতি হলেও তাঁদের চিন্তার মূল কেন্দ্র ছিল বিশ্বমানবতা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নোবেল পুরস্কার লাভের পর রবীন্দ্রনাথ উপনিবেশবিরোধী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে বিশ্বজুড়ে জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে বোঝাপড়ার বার্তা ছড়িয়ে দেন। জার্মানিতে তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে ১৯১৯ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে ২৫টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ভার্নার মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি ছিলেন না; তিনি দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীর সমন্বয় ছিলেন, যাঁদের মানবতাবাদ ও আধ্যাত্মিকতাই আজও বিশ্বসংলাপের ভিত্তি রচনা করে চলেছে।।
ক্ষমতার মোহ ত্যাগ: কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করলেন, দলীয় নেতৃত্বও ছাড়লেন