Published : 08 Jul 2026, 11:19 PM
সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার পটভূমিতে যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম ধাপের বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তা অবিলম্বে থামানো দরকার। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাব—ঠিক যেমনটি গত সপ্তাহে করেছিলাম, তবে এবার তা আরও ভয়াবহ হবে!' চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। এই আলোচনাটি কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টক-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের ভিত্তি ছিল একটি সমঝোতা স্মারক, যার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনসহ সকল শত্রুতা সমাপ্ত করা। প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে মার্কিন মিত্র ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু ইরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন লেবাননে যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুক্তিতে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
শান্তি বৈঠকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা মুখোমুখি হন। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লেবাননের পরিস্থিতি কিছুটা হালকাভাবে দেখার চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে গত কয়েক দিনে সেখানে যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি জটিলতা উল্লেখ করে বলেন, 'এই ধরনের বিষয়গুলো সবসময়ই কিছুটা অস্থির থাকে।' যদিও গত শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শনিবার ইরান জানায়, তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে টানা চার মাস এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে এক বিশাল বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রণালীটি পুনরায় বন্ধ হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। ইরানের ঘোষণার পর মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার সংকেত চালু রেখে প্রণালী পার হয়েছে, যেখানে গত কয়েক দিনে বহু জাহাজ চলাচল করছিল।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরান আরও স্পষ্ট করে বলেছে, লেবাননে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্থনৈতিক সুবিধা না দেওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপের কোনো আলোচনা শুরু হবে না। আলোচনার ফাঁকে জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎগুলোতে অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গনের সময় ভ্যান্সকে 'হোয়াটস আপ ম্যান?' বলে সম্বোধন করেন। জবাবে আসিম মুনিরও উইটকফকে আলিঙ্গন করে 'আমার ভাই' বলে সম্বোধন করেন।।
ক্ষমতার মোহ ত্যাগ: কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করলেন, দলীয় নেতৃত্বও ছাড়লেন