Published : 01 Jul 2026, 03:04 PM
এই বছরের বাজেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ কিছুটা কমে এসেছে। অর্থবিলের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে আপনার বিনিয়োগের ওপর কর ছাড়ের হিসাব ভিন্নভাবে করা হবে। যেমন, আপনি যত টাকা বিনিয়োগ করবেন, তার ১০ শতাংশ কর ছাড়ের জন্য গণনা করা হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, সর্বোচ্চ কর ছাড়ের সীমা কমেছে। আগে যেখানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাওয়া যেত, এখন তা কমে হয়েছে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। এই পরিবর্তন করদাতাদের জন্য কিছুটা কঠিন, কারণ একই সুবিধা পেতে এখন বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের বিনিয়োগজনিত কর ছাড়ের সুবিধা হ্রাস পেয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে করের বোঝা কিছুটা বেড়েছে। বড় করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আরও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগের মতো একই পরিমাণ কর ছাড় পেতে এখন তাদের আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে আয়কর আইনের ৭৮ ধারায় সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্বে বিনিয়োগজনিত কর ছাড়ের নিয়ম ছিল কিছুটা জটিল। নতুন নিয়মে, কর ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারণ হবে তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, তা হলো: মোট করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন একজন করদাতার এক বছরের করযোগ্য আয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই আয়ের ৩ শতাংশ হলো ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। যদি তিনি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী তার কর ছাড় হবে ১০ লক্ষ টাকা (বিনিয়োগের ১০ শতাংশ)। আগের নিয়মে এই পরিমাণটি হতো ১৫ লক্ষ টাকা (১৫ শতাংশ হারে)। সর্বোচ্চ কর ছাড়ের সীমাও কমেছে, যা আগের ১০ লক্ষ টাকা থেকে কমে হয়েছে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, নতুন নিয়মে কর ছাড় কমেছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এই পরিস্থিতিতে, বড় করদাতাদের অতীতের মতো একই পরিমাণ কর ছাড় পেতে এখন আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিনিয়োগের জন্য ৯টি খাত চিহ্নিত করেছে, যেখানে বিনিয়োগ করে কর ছাড় পাওয়া যাবে। বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় খাত হলো সঞ্চয়পত্র, কারণ এতে ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে এবং মুনাফার হার ব্যাংকের আমানতের চেয়ে কিছুটা বেশি। ফলে মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় করলেও কর ছাড় পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও, ডিপিএস-এর ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও কর ছাড় পাওয়া যায়, তবে এর জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার কিনতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদার কারণে কর কিছুটা হ্রাস পায়, কারণ এটি এনবিআর-এর বিনিয়োগজনিত কর ছাড়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। একই সাথে, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মীর চাঁদা এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেকোনো সিকিউরিটিজ কেনার ক্ষেত্রেও কর ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। এখন আপনার জন্য কোন খাতে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক হবে, তা ভেবে দেখা উচিত।।
শান্তি চুক্তির পর ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি ইউরোপীয় চার দেশের