Published : 28 Jun 2026, 08:00 PM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। এই চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে শুক্রবারও উভয় প্রকার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। যুদ্ধজনিত কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর পুনঃপ্রবাহ এই চুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হবে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ পরিবহন হয়। প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
একই সাথে, এই অঞ্চলে জাহাজের চলাচল কতটা বৃদ্ধি পাবে, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশলবিদ ভিভেক ধর একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছেন যে, এই অনিশ্চয়তাগুলো বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছালেই বাজার আবার যুদ্ধ-পূর্ব অতিরিক্ত সরবরাহের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, আগামী ৬০ দিনে আলোচনার পরবর্তী ধাপ এবং পারমাণবিক ইস্যুকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা অপরিশোধিত তেলের দামকে বর্তমান অবস্থান থেকে দ্রুত বা উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নামিয়ে আনবে বলে মনে হচ্ছে না।।
শান্তি চুক্তির পর ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি ইউরোপীয় চার দেশের