Published : 29 Jun 2026, 03:15 PM
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও চেয়ারম্যান অপসারণের সিদ্ধান্তকে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) স্বাগত জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এবিবির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশরুর আরেফিনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করেছিল এবং ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এবিবি ১০ জুন গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আমরা তখন জানিয়েছিলাম যে দ্রুত সমাধান ব্যাংকিং খাতের জন্য উপকারী হবে, কারণ ইসলামী ব্যাংকের সমস্যাটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এই প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে আমরা প্রশংসার চোখে দেখছি। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনদের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা পাবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিশাল আমানত ও বিনিয়োগ ভিত্তি, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কারণে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা কেবল ব্যাংকের নিজস্ব বিষয় নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। সাম্প্রতিক জনতা-নির্ভর বিক্ষোভ ব্যাংকটির সুশাসন, তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
আমরা বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ অনেকাংশে দূর করবে। বার্তাটির শেষে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে আমরা আশা করি, ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। একই সাথে আমরা আশা করি, দেশের সচেতন নাগরিকেরা উপলব্ধি করবেন যে ব্যাংকিং খাতে জনতা বা মব-সংস্কৃতির প্রভাব এই শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানাই।।
শান্তি চুক্তির পর ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি ইউরোপীয় চার দেশের