Published : 13 May 2026, 05:08 PM
দীর্ঘদিনের পথচলার সঙ্গী ছিলেন তিনি। একসঙ্গে কত কাজ, কত স্মৃতি! অভিনেতা তারিক আনাম খানের কাছে আতাউর রহমান ছিলেন শুধু পছন্দের সহকর্মীই নন, একজন অভিভাবকের মতো। তাঁদের আড্ডার দিনগুলো ছিল প্রাণবন্ত। প্রয়াত আতাউর রহমানকে স্মরণ করে তারিক আনাম খান ফেসবুকে লিখেছেন, “সেই অমলিন হাসি আজও চোখের সামনে ভাসে। আমি তাঁর হাসিমাখা মুখটিই মনে রাখতে চাই।” তারিক আনাম খান আরও লিখেছেন, “আজ না কাল করে যাওয়াটা আর হলো না। শেষ দেখা, শেষ কথাগুলোও বলা হলো না। এমন উদ্যমী মানুষ চলে যাবেন, এটা যেন বিশ্বাসই হয় না! হাসি-ঠাট্টা, তর্ক-বিতর্ক, ভালোবাসা-অভিমান—কত স্মৃতি!” মঞ্চে একসঙ্গে পথচলার দীর্ঘ ইতিহাস তাঁদের। একে অপরের পাশে থেকেছেন সবসময়। একে অপরের নাটক দেখেছেন, নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই স্মৃতিচারণায় তারিক আনাম খান উল্লেখ করেছেন, “আতা ভাইয়ের নির্দেশিত ও অভিনীত বেশিরভাগ নাটক দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল।
তবে তার চেয়েও বড় সৌভাগ্য হলো, তিনি আমার নির্দেশিত ও অভিনীত সব নাটক দেখেছেন, সমালোচনা করেছেন, কিন্তু সবসময় প্রশংসা করেছেন এবং পত্রিকায় লিখেছেন।” ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটি নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে আতাউর রহমান নাট্যনির্দেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এরপর তাঁর নির্মিত নাটকগুলো নিয়মিত দেখতেন তারিক আনাম খান। একসময় তারিক আনাম খানের নাটকগুলোও নিয়মিত দেখতেন আতাউর রহমান। তারিক আনাম খান লিখেছেন, “তিনি আমাদের নবনাট্য আন্দোলনের একজন অগ্রদূত। “তুঘলক”, “ক্রুসিবল”, “আরজ চরিতামৃত”, “বন্দুক যুদ্ধ, গাধার হাট” নিয়ে তাঁর লেখা নাট্য সমালোচনা আমার স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।” আরও পড়ুন: ‘কেউ বলে নোয়াখাইল্লা, কেউ চাটগাঁইয়া, অনেকে বলে ৬৫/৩৫’ ১২ মে ২০২৬ তারিখে তারিক আনাম খান আরও লিখেছেন, “আতা ভাই ছিলেন আদ্যোপান্ত থিয়েটারে নিবেদিত একজন মানুষ। কখনো দেখা যায়নি তিনি দেরি করে রিহার্সালে এসেছেন, অথবা প্রদর্শনীতে অনুপস্থিত ছিলেন। আতা ভাই রিহার্সাল কিংবা প্রদর্শনীতে থাকলে তৈরি হতো এক আনন্দমুখর পরিবেশ। বয়স যেন তাঁর কাছে কোনো বাধা ছিল না। সেই হাসিমাখা মুখটি আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।
আমি তাঁর হাসিমাখা মুখটিই মনে রাখতে চাই। অনন্তলোকে তিনি আনন্দে থাকুন।” বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আতাউর রহমান। গত সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সত্তরের দশকে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং একাধিক নাটকে অভিনয় করেন। আতাউর রহমান নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’-এর মতো অসংখ্য নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।।
বিজয় আস্থাভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলেন, জোটের সমর্থনে সরকার গঠন করলেন