Published : 13 May 2026, 11:08 AM
টিটন, নাজমুল ও আলমগীর—কৃষি কাজের সঙ্গে তাদের সরাসরি পরিচয় নেই। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তবে ধান কাটার এই সময়ে শ্রমিক না পেয়ে তারা মাঠে নেমে পড়েছে। একদিকে তারা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে ফসল তুলতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে পড়াশোনার পাশাপাশি একটু বাড়তি উপার্জনও করছে।ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় প্রায় অর্ধেক পাকা ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে। কৃষকেরা শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছেন না, আর সময়মতো ফসল কাটতে না পারলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একদল স্কুলগামী ছাত্র কৃষকদের ধান কেটে শ্রমিক সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছে। এতে শিক্ষার্থী এবং কৃষক উভয়েই লাভবান হচ্ছে।স্থানীয় ঘোড়দহ গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, কাপাহাটিয়া বাঁওড়ের পাশে তার দেড় বিঘা জমির ধান পেকে সোনালী হয়ে উঠেছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না, আর যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম ছিল। আশপাশের গ্রামে খোঁজ করেও লাভ হয়নি।
শেষ পর্যন্ত গ্রামের কয়েকজন ছাত্র এগিয়ে আসে। তাদের সাথে কথা বলে খড়ের আঁটি বাঁধা এবং ধান স্তূপ করে রাখার জন্য পাঁচ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। তারা এক বিকেলে কাজটি সম্পন্ন করে দেয়।একই গ্রামের খয়বর আলী বলেন, একসাথে সব জমিতে ধান পাকায় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকেরা এখন অনেক বেশি মজুরি চাইছে। দৈনিক তিন বেলা খাবারসহ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে, তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকটকালে এলাকার স্কুল-কলেজের ছেলেরা চুক্তিতে ধান কাটতে শুরু করেছে, যা তাদের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনছে।এলাকার রহিম মণ্ডলের জমিতে খড়ের আঁটি বাঁধতে বাঁধতে ভালকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র টিটন হাসান জানায়, সে কৃষক পরিবারের সন্তান। সাধারণত সে বিকেলে বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। কিন্তু ফসল কাটার সময় শ্রমিক সংকট দেখে তারা কয়েকজন মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তারা কয়েকজন কৃষকের কাজ করে দিয়েছে।
একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল হক জানায়, কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তারা ছোটবেলা থেকেই এই ধরনের কাজে অভ্যস্ত। তাই কাজ করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তারা একসাথে আনন্দ করে কাজগুলো করছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কিছু সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, এই মৌসুমে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কৃষকেরা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ধান কাটা শুরু করেছেন। তবে এখনো প্রায় অর্ধেক পাকা ধান মাঠে রয়ে গেছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টির কারণে ফসল কাটা বন্ধ ছিল, কৃষকেরা ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এখন জেলাজুড়ে একসাথে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের তীব্র চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনেকে বেশি মজুরি চাচ্ছেন।।
বিজয় আস্থাভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলেন, জোটের সমর্থনে সরকার গঠন করলেন