Published : 08 May 2026, 02:06 AM
ভারতে বসবাস করা অভিবাসীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লি চায়, তাদের দেওয়া তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হোক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। সম্প্রতি ঢাকা ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কিছু মন্তব্যর প্রেক্ষিতে তিনি এই কথা বলেন। রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে কিছু মন্তব্য শুনেছি। তবে, অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যগুলো দেখা উচিত, যেখানে বাংলাদেশের সহযোগিতা জরুরি।
” তিনি আরও জানান, “নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য ২,৮৬০টির বেশি আবেদন বাংলাদেশের কাছে আটকে আছে। এর মধ্যে কিছু আবেদন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।” জয়সোয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশি পক্ষকে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়েছি, যাতে তাদের সম্মানের সাথে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ হয়।” ভারতের বিদ্যমান নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে থাকলে, তাকে আইন ও নিয়ম অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর আর কাউকে বাংলাদেশে ‘পুশ’ করা হবে না।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর যদি ‘পুশ-ইন’ এর ঘটনা ঘটে, তবে বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘অবৈধ’ অভিবাসন ইস্যুটি তাদের প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগ আনলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তা অস্বীকার করেছে। এছাড়াও, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি নদী রয়েছে এবং পানিবণ্টন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে বৈঠক করে।।
সরকার গড়তে ব্যর্থ থালাপতি বিজয়! সামান্য ত্রুটিেই কি শেষ হলো স্বপ্ন?