Published : 26 Apr 2026, 07:08 PM
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও এক নারী শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনার পর আজ রোববার কলেজ খুললেও তাঁরা কর্মস্থলে যেতে পারেননি। চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁরা এখনো কাজে যোগ দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।এদিকে, নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করার অভিযোগে শাহাদাত আলী নামের এক মৎস্যচাষী ও বিএনপি কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি গত বৃহস্পতিবার কলেজে ঢুকে ওই শিক্ষকের উপর হামলা চালান।আজ সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক আজ কলেজে আসেননি। হামলার শিকার শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনও অনুপস্থিত ছিলেন। বেলা দুইটা থেকে কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল কম।আরও পড়ুন: রাজশাহীতে কলেজে ঢুকে নারী শিক্ষককে মারধর, বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা২১ ঘণ্টা আগে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঘটনার দিন তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঘটনার দিনই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।তবে, অন্য একটি মাধ্যমে শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর তিনি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো এমন নয় যে তিনি কলেজে যেতে পারবেন। এ ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পরই তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই তাঁরা ঝুঁকছেন।জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। তবে, দাওকান্দি সরকারি কলেজের আহত অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।আরও পড়ুন: রাজশাহীতে কলেজে ঢুকে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা, অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে২৪ এপ্রিল ২০২৬ এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনের অপসারণ দাবি করেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। তাঁরা এ জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
একই দাবিতে গতকাল বিকেলে তাঁরা এলাকায় মানববন্ধনও করেন।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজকেরা কলেজে গিয়েছিলেন। তাঁরা বিএনপির নেতা-কর্মী। কলেজে আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তাঁদের তর্ক হয়, একপর্যায়ে আলিয়া খাতুন তাঁদের দুজনকে থাপ্পড় মারেন এবং একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে এসে আলিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। আলিয়ার দাবি, শাহাদাত আলী তাঁকে আপত্তিকর কথা বললে তিনি তাঁকে চড় মারেন। এর জবাবে শাহাদাত আলী তাঁকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে শাহাদাত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় তাঁদের মারধর করেন। এরপর কলেজে পরীক্ষা শুরু হলে ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী এসে তৃতীয় দফায় অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করেন এবং অধ্যক্ষসহ আলিয়া খাতুনকে মারধর করেন।।
তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের কঠোর বার্তা: শি জিনপিংয়ের ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা