Published : 24 Apr 2026, 09:06 PM
উজানের ভারী বর্ষণের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কৃষকদের আগামী চার দিনের মধ্যে পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে। আজ শুক্রবার পাউবো এই আশঙ্কার কথা জানায়। এর আগে মঙ্গলবারও সংস্থাটি অকাল বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছিল। হাওরের কৃষকেরা এখন আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছেন। পাউবোর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিন এবং উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, ২৭ এপ্রিল মাঝারি থেকে ভারী এবং ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাই, কংসসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়তে থাকবে। ২৮ এপ্রিল থেকে কিছু নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাউবো জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিলের পর আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই যে সকল জমির ধান ৮০ শতাংশ বা তার বেশি পাকা, সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, সুনামগঞ্জে প্রতি বছর এই সময় পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা হয়, যাতে হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত এতে ঘরবাড়ি বা রাস্তাঘাটের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ছে, যা আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
পাউবোর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার প্রথম আলোকে জানান, ‘সুনামগঞ্জের স্থানীয় বৃষ্টির চেয়ে ভারতের চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি হাওরের বোরো ধানের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। উজানে বৃষ্টি বাড়ছে, তাই সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। আমরা আবারও হাওরের কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার অনুরোধ করছি।’।
ক্ষমতার ভার হাতে নিতেই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী: 'আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে'