Published : 08 Mar 2026, 07:08 AM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চারজন প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিক্ষা সম্পাদকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এই দুই নেতা সংগঠনকে ব্যবহার করে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে এই দুই নেতার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। শনিবার জকসুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব, পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান সাম্য। অভিযুক্ত নেতারা হলেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রতিনিধিরা বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলার মতো জঘন্য ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শিবিরের এই দুই নেতা জকসুর নাম ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। জকসুর অন্য প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত নন।
এটি জকসুর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার একটি অপচেষ্টা। তাঁরা পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।” তাঁরা জকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অবিলম্বে অভিযুক্তদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জকসুর এই চার নেতা আরও বলেন, “জকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সংঘটিত এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।” গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। আহত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তাঁরা জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এবং জকসুর প্রতিনিধিরা তাঁদের উপর হামলা চালান। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় জকসুর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন জকসুর পদে থাকা ছাত্রশিবিরের দুই নেতা। তাঁরা দাবি করেন, তাঁরা হামলা করেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জিএস ও শিক্ষা সম্পাদককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’। তবে এজিএসের এই বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে শনিবার পাল্টাবিবিৃতি দিয়েছেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চার নেতা। তাঁদের মতে, হামলাকারীরা নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জকসুর নাম ব্যবহার করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।।
মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের মরিয়া চেষ্টা: পথেই প্রাণ গেল ৩৪ অভিবাসীর