Published : 01 Mar 2026, 07:08 AM
দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী যারা বিনা বিচারে কারাবন্দী, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে এসব মামলার নিরপেক্ষ পুনঃপর্যালোচনা করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামান্যতম সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমনকি, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন ব্যক্তিরাও শিকার হয়েছেন এই হয়রানির।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব আসামির অনেকের বিরুদ্ধেই আজ পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়নি। এর মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন, যারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ এই ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সুচিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। জামিন নামঞ্জুর করে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামিন পাওয়া প্রত্যেক অন্তরীণ ব্যক্তির আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। মামলা দায়েরের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অনেকের বিরুদ্ধে পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি অথবা কোনো অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি। ফলে, তারা বিনা বিচারে অসুস্থ অবস্থায় কারাভোগ করছেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, গ্রেপ্তারের পরই তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি, হাইকোর্ট থেকে আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার পরও অন্য মামলায় তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, নারী পক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তবারক হোসেন, লেখক রেহনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খায়রুল চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, ল্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাদাফ নূর, নৃবিজ্ঞানী নাসরিন খন্দকার। এছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী পারভেজ হাসেম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা এবং কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।।
সাহারা মরুভূমিতে এক ভয়াবহ যাত্রা: ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল প্রায় ৫০ জন