Published : 11 Dec 2025, 01:06 AM
রাজধানীর রমনা পার্কের প্রাণবন্ত প্রকৃতি আর মানুষের জীবনযাত্রার এক মনোমুগ্ধকর চিত্র তুলে ধরেছেন আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার। ‘ভালোবাসি রমনা: প্রাণ ও প্রকৃতির গল্প’ শীর্ষক তার আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল আটটায় পার্কের শকুন্তলা চত্বরে ৫৫টি ছবির এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব, দৃক পিকচার লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক ও কিউরেটর এ এস এম রেজাউর রহমান, আন্তর্জাতিক দৌড়বিদ খবীর উদ্দীন খান, পার্কের মহিলাঙ্গনের সংগঠক কোহিনূর হক এবং পার্কে আসা নিয়মিত দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাসলিমা আখতার জানান, প্রায় এক দশক ধরে তিনি পার্কে হাঁটছেন এবং রমনার মানুষেরা, গাছপালা, পাখি, কাঠবিড়ালি, কদম ফুল—সবকিছু মিলিয়ে এক ভিন্ন জগৎ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, তাসলিমা আখতারের ছবিতে তার জীবনের গভীরতা প্রকাশ পায়। রানা প্লাজার মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি যে ছবিটি তুলেছিলেন— “দ্য ফাইনাল এমব্রেস”—সেটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার পায়। ছবিটি শ্রমিকদের শেষ আলিঙ্গনের মাধ্যমে জীবনের অসহায়তা ও কষ্টের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছিল। তিনি আরও বলেন, তাসলিমা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি জীবনের সংবেদনশীলতাকে ক্যামেরাবন্দী করেন। এই প্রদর্শনীতে গাছের জীবন, ২০১৬ সালের ঝড়ে উপড়ে পড়া মহুয়াগাছের গল্প রয়েছে। তাসলিমা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুধু আর্ট গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যে স্থানে ছবি তোলা হয়, সেখানেই এর প্রদর্শনী হওয়া উচিত।
এতে ছবিগুলোর সঙ্গে মানুষের সংযোগ আরও দৃঢ় হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং তাসলিমা আখতার ছবিগুলোর পেছনের গল্প শোনান। পরে পার্কের মনোরম পরিবেশে সকলে চায়ের আসরে মিলিত হন। রমনা পার্কে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিয়ে সাজানো এই তিন দিনের প্রদর্শনীটি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ছবি দেখার সুযোগ পাবেন।।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের দারুণ খবর!