Published : 15 Aug 2026, 08:16 PM
দেশের জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত এই সরবরাহ ৮১০ মিলিয়ন এমএমসিএফ (মিলিয়ন মেগাওয়াট ঘনফুট) পৌঁছেছে, যার ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ২,৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এই রেকর্ড সরবরাহ সম্ভব হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির পর। পেট্রোবাংলার জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিটের এফএসআরইউ-গুলি থেকে সম্মিলিতভাবে ৩০০ মিলিয়ন এবং ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশীয় উৎস থেকেও ১,৬১৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে। গত ২১ জুলাই মহেশখালী উপকূলে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছিল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে, গত ১৩ থেকে ১৪ আগস্ট দাপ্তরিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল অনেক কম। তবে আজকের ২,৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুটের সরবরাহ পরিস্থিতি অতীতের ঘাটতির তুলনায় একটি বড় স্বস্তি এনেছে। বিদ্যুৎ খাতে ৯৬০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত গ্যাস বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা, যাতে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমানো যায়। যদিও বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ৮৬০ মিলিয়নের কাছাকাছি, তবে গ্যাসের প্রাপ্যতা এবং সিস্টেমের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। সার কারখানা, শিল্প এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে এবং বাকি অংশ এলএনজি থেকে মেটানো হয়।
বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ-এর সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে সামিটের সক্ষমতা ৫০০ এবং এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি। এই ইতিবাচক পরিবর্তন জাতীয় গ্রিডে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এখনও পেট্রোবাংলার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: প্রথমার্ধে ১৬.৪ শতাংশ পতন