Published : 09 Jul 2026, 07:04 AM
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি এক গোলটেবিল আলোচনায় মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রচলিত বৃহৎ আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো তাদের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার 'মধ্যম শক্তি' অবস্থানকে আরও মজবুত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী। আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেন) আয়োজিত এই আলোচনায় তিনি এই বক্তব্য দেন। ব্রেন কর্তৃক আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনাটির প্রচার সহযোগী প্রথম আলো। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জোর দিয়ে বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এগিয়ে চলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তাই ব্রিকস, আসিয়ান, এসসিও এবং আরসিইপির মতো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জোটগুলোতে যোগদান করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। তাঁর মতে, 'ক্ষয়প্রাপ্ত বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।' উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং তারা আগের মতো কাজ করতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে, মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে সরকার এই জোটগুলোতে সদস্যপদ গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার জন্য সরকার এখন ঋণ বা সাহায্যের পরিবর্তে শিল্পায়ন, উৎপাদনমুখী সরাসরি বিনিয়োগ এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মনে করেন, বাংলাদেশ এখন ‘টু প্লাস টু’র মতো বিভিন্ন উপায়ে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের কৌশলগত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। এই গোলটেবিল আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন ও মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক, এবং ব্রেনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমানসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।।