Published : 09 Jul 2026, 02:14 AM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, গত মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮,২২৩.৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই বিপুল ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে আসল এবং সুদের পরিশোধের বোঝা আরও বাড়বে। বুধবার (২৪ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই ঋণের মধ্যে ৬১.৯৭ শতাংশই সহজ শর্তের (কনসেশনাল) ঋণ এবং ৩৮.০৩ শতাংশই কঠিন শর্তের (নন-কনসেশনাল) ঋণ অন্তর্ভুক্ত। আমির খসরু বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জের দিকে আলোকপাত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ফলে বৈদেশিক ঋণের 'সহজ শর্তের' অংশটি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ভবিষ্যতের পরিশোধের দায় আরও কঠিন হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিএনপি সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়। শুধুমাত্র উচ্চ অর্থনৈতিক রিটার্ন দেওয়া প্রকল্পগুলোর জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয়ের বৃদ্ধি রোধ করতে নিবিড় তদারকি শুরু করা হয়েছে। সরকার এখন মধ্যমেয়াদী ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি হালনাগাদ করছে এবং ঋণকে টেকসই ও সহনশীল করার লক্ষ্যে ঋণ টেকসইতার বিশ্লেষণ পরিচালনা করছে। সবশেষে, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের পরিকল্পনা শীঘ্রই শুরু করা হবে।।
৭৮,২২৩ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ: পরিশোধের চাপ বাড়ছে, নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ জরুরি: আমির খসরু