Published : 09 Jul 2026, 01:53 AM
২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের মোট ৫৮টি দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি প্রদর্শন করেছে। এই ঘাটতির মধ্যে চীন এবং ভারতের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। জাতীয় সংসদকে এই তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কারণ দেশের শিল্প খাত কাঁচামাল, জ্বালানি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৭.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৯৪.৪৯ মিলিয়ন ডলার। ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, শিল্প কাঁচামাল এবং মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানি এই ঘাটতির প্রধান কারণ। ভারতের সাথে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা গেছে, যার পরিমাণ ৭.৮৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও বাংলাদেশ ভারতকে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, তবুও তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার সাথে যথাক্রমে ৩.৫৯, ২.৮০ এবং ২.০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। ভিয়েতনামের সাথে ৭৯৯.৭৪ মিলিয়ন ডলার এবং থাইল্যান্ডের সাথে ৭২৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি বিদ্যমান। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথেও বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানের সাথে যথাক্রমে ২.১১, ১.৩৬, ১.১৯ এবং ২১৯.৬৬ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে। পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর মধ্যে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং হংকংয়ের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি যথাক্রমে ৮০৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার, ৭৪০.০২ মিলিয়ন ডলার, ৪৮৯.৩০ মিলিয়ন ডলার এবং ১৯৯.৩৫ মিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সাথে ঘাটতির পরিমাণ ৬৮১.৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার সাথে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সাথে ৪১৪.৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সাথে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি দেখা গেছে, যার পরিমাণ ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার। আর্জেন্টিনার সাথে ৭৬৩.১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়েতে ৮৩.৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের পরিমাণ কম হলেও ঘাটতির বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালয় এবং বুর্কিনো ফাসোর সাথে যথাক্রমে ৫১১.৯৫, ৪৬৪.৭৫, ২৭২.৩১, ২৪৭.১১ এবং ১৯৫.০৭ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে যথাক্রমে ৩২০.১৯ মিলিয়ন ডলার এবং ২৯৭.৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী অবহিত করেন।।
৭৮,২২৩ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ: পরিশোধের চাপ বাড়ছে, নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ জরুরি: আমির খসরু