Published : 19 Jun 2026, 02:45 AM
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের অর্থ উত্তোলনে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যার ফলে আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন। গভর্নর আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্য জরুরি তারল্য সহায়তার (Emergency Liquidity Support) ব্যবস্থা করা হবে। এই বক্তব্য তিনি শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রদান করেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের বোর্ড পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পাঁচজন সদস্যের প্রয়োজন, তাই দ্রুত একজনকে নিয়োগ করা অপরিহার্য ছিল। অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের পরিবর্তন অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত একটি বোর্ডের অংশ হিসেবে ঘটেছে এবং কোনো বোনাস বা পদোন্নতির জন্য কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ছিল ৯৩, যা বর্তমানে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সীমা ৯২ শতাংশ হওয়ায় তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এই অনুপাত কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, তিনি এমন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যখন ব্যাংকিং খাতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ পাচার হয়েছে। খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ৩৫ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পর এই যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল প্রথমে খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং পরবর্তীতে তা শক্তিশালী করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সকলের ধৈর্য প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবে যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, তা তিনি খণ্ডন করেন।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মে মাসের শেষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন চেয়ারম্যান প্রথম সভা করেছেন। একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যার সমাধান বর্তমানে চলছে। অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সুখবর দিতে তিনি জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১২ বছর ধরে আটকে থাকা আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াও গতি পাবে।।
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না: গভর্নরের আশ্বাস