Published : 15 May 2026, 12:09 AM
মূল্যবৃদ্ধি, বেশি কর এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ বেশ বিপাকে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির সিগারেটের বিক্রি প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গেছে, যা প্রায় ১৫০ কোটি ৭০ লক্ষ শলাকার সমান। এর ফলে মুনাফা প্রায় ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, এই বছর প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা হয়েছে ২০৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৩১৭ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৮৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা। আজ বুধবার (১৪ মে) শেয়ার বাজারে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে কোম্পানিটির মোট আয় ৯.০৮ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই খবর প্রকাশের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১.৫২ শতাংশ কমে ২১৪ টাকায় নেমে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৯২৩ কোটি ১০ লক্ষ শলাকা সিগারেট বিক্রি করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৯০ লক্ষ শলাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশে তামাকের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া অথবা বাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর কারণ হতে পারে বেশি কর, মূল্যস্ফীতি বা দামের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সস্তা বিকল্প পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ। সিগারেটের বিক্রি কমে যাওয়ায় কোম্পানির মোট আয়ও কমে গেছে। মুনাফা কমে যাওয়ার বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিক্রি এবং আয় কমে যাওয়াই ইপিএস কমে যাওয়ার মূল কারণ। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, অর্থায়নের খরচ সামান্য কমে ৪৯ কোটি ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে, তবে পরিচালন ব্যয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ২৩১ কোটি ৮৩ লাখে পৌঁছেছে। যেখানে গত বছর এই ব্যয় ছিল ১৬৪ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার প্রতি নেট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ২২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে গেছে। গত বছরও এই সময়ে এটি ঋণাত্মক ছিল, তখন পরিমাণ ছিল ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। তবে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ১০৩ টাকা ৩৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, বিক্রি থেকে আয় কমে যাওয়া এবং স্বল্পমেয়াদী ঋণের ব্যবহার বাড়ায় সুদ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় নেট পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে। কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকার মোট বিক্রির বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৭ হাজার ২৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বিএটি বাংলাদেশ।
এছাড়া আয়কর বাবদ পরিশোধ করেছে ২৮৫ কোটি টাকা। এর আগের বছর প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছিল। দেশীয় বাজারে বিক্রি থেকে কোম্পানির মোট আয় কমে ৮ হাজার ৪১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২৪৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। তবে সমাপ্ত পণ্য রপ্তানি থেকে কোনো আয় হয়নি। তামাকপাতা রপ্তানি করে কোম্পানিটি ৫৯ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা আয় করেছে। কর পরিশোধের পর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।।
ব্যাংক ঋণে নতুন ছাড়: বড় শিল্পগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়লো