Published : 01 May 2026, 10:06 AM
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা অর্থ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থগুলোর বিপরীতে এখন প্রভিশন রাখতে হবে না। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের অর্থ এই একীভূত ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ করা ছিল। যেহেতু এটি বিনিয়োগ, তাই এর বিপরীতে প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক – এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে একটি নতুন ইসলামী ব্যাংক কাঠামো তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, আগের সরকার আমলে এক্সিম ব্যাংকটি নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে ছিল, যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অভ ব্যাংকসের চেয়ারম্যান ছিলেন।
অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ আছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে এই ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এর ফলে ব্যাংকগুলো মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। শুরুতে, ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু পরে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট জানায়, এই অর্থের জন্য প্রভিশন রাখার প্রয়োজন নেই। আটকে থাকা অর্থ একটি বিশেষ স্কিমের অধীনে সুরক্ষিত আছে। ভবিষ্যতে এই ব্যাংকগুলো সরাসরি অর্থ ফেরত পেতে পারে, অথবা দীর্ঘমেয়াদী ফিক্সড ডিপোজিট বা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পেতে পারে।
তাই এই অর্থ সম্পূর্ণরূপে ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট সময় পর শেয়ার পেতে পারে, অথবা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ তাদের অর্থ ফেরত পাবে। তাই এই ধরনের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার কোনো যুক্তি নেই। খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর স্বল্পমেয়াদে চাপ কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।।