Published : 23 Aug 2026, 10:16 PM
গুম, হত্যা, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মানুষ ও তাদের পরিবারগুলোর অধিকার ও কল্যাণের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি নতুন অধিদপ্তরের গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই নতুন কাঠামোটি ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হবে। আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় স্পষ্ট করা হয় যে, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গুম, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, খুন হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি বা শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
এই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভুক্তভোগীদের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা। জাতিসংঘের 'ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকারের অধিকার' সংক্রান্ত নীতি এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়। এই লক্ষ্যে তিনটি প্রধান পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা, ভুক্তভোগী ও পরিবারগুলোর অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন তৈরি করা, এবং বিদ্যমান 'রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬' সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলো মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল মানুষের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি অভিযোগ করেন যে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটাধিকার হরণ, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই মৌলিক অধিকারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই ধরনের অবিচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন অধিদপ্তর ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।।