Published : 21 Aug 2026, 04:16 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের একটি প্রধান কারণ ছিল আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ জানানো। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সম্মতি জ্ঞাপন করেন। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি শিক্ষাগত উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদার করার পদক্ষেপসমূহ, বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গৃহীত সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়াও, উপাচার্য মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদার করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও রোবোটিক্সের মতো ক্ষেত্রগুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি এবং বিভিন্ন শিল্পে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন চেয়েছেন। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদার করা অপরিহার্য এবং এই ক্ষেত্রেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং অ্যালামনাইদের সহযোগিতা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।।