Published : 18 Aug 2026, 10:16 AM
বিএনপি সরকারের মেয়াদে গত ছয় মাসে কিছু ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানি কিছুটা বেড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ইতিবাচক মনে হলেও, মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার এখনও উদ্বেগের কারণ। যদিও ঋণের সুদের হার কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। একটি বড় অসঙ্গতি হলো—আমদানি বৃদ্ধি পেলেও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির গতি একই রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা। বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাতে জিডিপির অবদান নেতিবাচক হয়ে যাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা জরুরি। গত ছয় মাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। সরকার যে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে, তা কি সত্যিই বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে? সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট নয়। একদিকে সরকার ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে এবং সুদের হার কমাচ্ছে, অন্যদিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে। এর ফলস্বরূপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। সরকার পাঁচ বছরের সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামো নীতি তৈরি করছে, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো খাতের জন্য কী করা হবে তা উল্লেখ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে, ডকুমেন্টেশন যতই নিখুঁত হোক না কেন, সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। এই অর্থনৈতিক ধাঁধার সমাধান করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।।
রাজস্ব ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও বিস্তৃত করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর: আস্থা ও আধুনিকতার পথে যাত্রা