Published : 17 Aug 2026, 03:16 AM
দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটের সঙ্গীত শিক্ষাদান এখন আর কেবল ধানমন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এই অসাধারণ সংগীত শিক্ষা এখন অনলাইনে সকলের জন্য উন্মুক্ত। এখন থেকে যে কোনো স্থানে বসবাসকারী সংগীতপ্রেমীরা, এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষও, ছায়ানটের এই শিক্ষামূলক উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘প্রবাসী ও ঢাকার বাইরের সংগীতানুরাগীদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এই নতুন কার্যক্রম। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের সূচনা উপলক্ষে ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছায়ানটের সাংগীতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘মানুষ হ, মানুষ হ, আবার তোরা মানুষ হ’ গানটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ, সংগীত বিদ্যায়তনের নতুন অধ্যক্ষ সেলিনা মালেক চৌধুরী এবং অনলাইন সংগীত শিক্ষার চার প্রশিক্ষক শিল্পী শারমিন সাথী ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও টিংকু কুমার শীল।
সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ জানান, এতদিন ছায়ানটের সঙ্গীত শিক্ষা কেবল ঢাকার সংস্কৃতি–ভবনেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশে থাকা সংগীতপ্রেমীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। তবে ২০১৪ সাল থেকে সহস্র কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ছায়ানটের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়, যা বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই সক্ষমতার ভিত্তিতে এখন সংগীত শিক্ষাকে আরও প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে প্রতি রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও লোকসংগীতের পাঠদান চলবে। ইতোমধ্যে বয়সভেদে এবং ‘শিশু-কিশোর’ ও ‘সাধারণ’ শাখায় মোট ১২১ জন শিক্ষার্থী এই কোর্সে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন, ইউরোপের ৭ জন, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতের ৯ জন এবং দেশের অভ্যন্তরের ৯৩ জন।
এর পরবর্তী ধাপে, অনলাইনে ‘নিবিড় শিক্ষণ’-এর মাধ্যমে আরও অগ্রসর শিক্ষার্থীরা যুক্ত হবে। এই নিবিড় প্রশিক্ষণে গান শেখাবেন তিন গুণী শিল্পী ও শিক্ষক কিরণ চন্দ্র রায় (লোকসংগীত), খায়রুল আনাম শাকিল (নজরুলসংগীত) এবং লাইসা আহমদ (রবীন্দ্রসংগীত)। এই ক্লাসগুলো আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। ছায়ানটের ওয়েবসাইট থেকে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। সভাপতির বক্তব্যে সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানট এখন দেশের বৃহত্তম সঙ্গীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদের কোর্স করছেন। এবার ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা কার্যক্রম ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে দেশ ও বিদেশের বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত হলো, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়।।