Published : 16 Aug 2026, 10:16 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারতের সরকার বা আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কিনা—এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ এখতিয়ারভুক্ত। রোববার (১৬ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউটর বলেন, 'শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতীয় আদালতের অনুমোদন আবশ্যক হতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা জোর দিয়ে বলছি, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ প্রচলিত সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'ভারতের কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নেবেন বা কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা আদালতের নাকি সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমে তাকে পাঠাবেন, এই বিষয়টি পুরোপুরি ভারতের ব্যাপার। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো তাকে দেশে প্রত্যাবর্তন করানো।
' প্রধান প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন এবং এরই মধ্যে তিনি একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবেন। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, তার আগেই ভারত সরকারের উচিত তাকে বাংলাদেশে পাঠানো। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাই তাকে অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে—এটাই আমাদের অবস্থান।' ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আমিনুল ইসলাম বলেন, 'ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই। তাই ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে আমরা আর বেশি মন্তব্য করতে পারছি না।' দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই চুক্তির আওতায় ভারত পূর্বে বাংলাদেশ থেকে অনুপ চেটিয়ার মতো ব্যক্তিদের ফিরিয়ে এনেছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি প্রযোজ্য হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে ভারত সরকার এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলেও ভারতের দিক থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।' পরিশেষে তিনি উপসংহার টানেন, 'প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তাবলী মেনে বাংলাদেশ সরকারই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। এখন ভারত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।' ।
উত্তরা ফাইন্যান্সের শীর্ষ পদে তছনছ: চেয়ারম্যান ও চার পরিচালকের পদত্যাগ, আর্থিক জালিয়াতির কালো ছায়া