Published : 17 Aug 2026, 01:16 AM
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার (১১) নিহত হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আরও সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়। আজ রোববার বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহত সকল শিক্ষার্থীই সিলোনিয়া হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিল। ঠিক সেই সময় বিকেল চারটার দিকে ‘হ্যাপি ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় আটজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়; তাদের মধ্যে চারজন বাসের ধাক্কায় এবং বাকি চারজন বাসের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত বাসটিকে থামিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
গুরুতর আহত সুরাইয়াকে ফেনীর মহিপাল স্টার লাইন স্পেশাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার পরিবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। আরও কিছু শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। আহত দুই শিক্ষার্থীকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, এবং সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রাইসার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরও দুজন শিক্ষার্থী দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করে। সিলোনিয়া হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়া পাল জানান, স্কুল ছুটির পর তারা বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যে একটি বাস তাদের ওপর এসে পড়ে এবং চাপা পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বাসটিকে ভাঙচুর করে এবং পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে পুলিশ ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। সিলোনিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসটি আটক করে ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছিল। এরপর পুলিশ ও শিক্ষকরা তাদের বোঝানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেন। ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এর আগে দাগনভূঞা থানা-পুলিশ এবং সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে যায়। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।।
ডেমরার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো দুটি সন্দেহজনক বস্তু, এক ব্যক্তি আটক