Published : 16 Aug 2026, 11:16 PM
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগের অভাবে মামুন মিয়া বাসার বাইরে বের হন। এই সময়েই তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই মো. রুবেল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ আজ রবিবার সাক্ষী রুবেল এই মর্মে জবানবন্দি প্রদান করেন। রুবেল গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী। জবানবন্দিতে রুবেল জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাত ২টার দিকে প্রতিবেশী (সম্পর্কে ভাগনে) নিরবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর ভাই মামুন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিরব তখন বলেছিলেন, ‘মামা, রক্ত লাগবে। দ্রুত ব্যবস্থা করুন।’ রুবেল আরও জানান, তাঁর ভাই নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সেই সময় তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেদিন ভোর ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, তাঁর ভাই অক্সিজেন সংযোগে আছেন। জবানবন্দিতে রুবেল আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের মাথার পেছন দিক থেকে গুলি লেগে বাঁ চোখের ওপর দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং সেখানেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। এরপর তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ১৯ জুলাই বেলা ১১টা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁর ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। মামুন সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি রামপুরার ওয়াপদা রোডের ওমর আলী লেন এলাকায় থাকতেন। রুবেল আরও জানান, মামুনের রুমমেট পারভেজের কাছ থেকে জানতে পারেন যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় মামুন বাসার বাইরে বেরিয়েছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বর্ণনা করেন যে, রামপুরা ওয়াপদা রোডের মাথায় তখন অনেক লোক ছিল এবং তিন-চারটি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে আসে।
তখন সকলে ছোটাছুটি করছিল। এই সময়ে তাঁর ভাই সামনে ছিলেন এবং বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রুবেল দাবি করেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদুল ও মশিউর জড়িত থাকার কারণেই তাঁরা সকলের বিচার দাবি করেন। এই মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।।
ডেমরার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো দুটি সন্দেহজনক বস্তু, এক ব্যক্তি আটক