Published : 16 Aug 2026, 11:16 AM
ইন্দোনেশিয়ার বুকে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে উদ্ধার অভিযান তীব্র গতিতে চলছে। এই ভয়াবহ কাঁপনত ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমপক্ষে ৪৭ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে, যদিও বার্তা সংস্থা রয়টার্স মৃতের সংখ্যা ৫১ বলে জানিয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর পাঁচটার আগে স্থানীয় সময় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর পরপরই আরও বেশ কয়েকবার তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসলীলার কারণে শতাধিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, মাংগারাই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়াও পূর্ব মাংগারাইয়ে ১৭ জন, সিকা অঞ্চলে ৩ জন এবং নাগাদা, এন্দে ও পশ্চিম মাংগারাইয়ে অন্তত এক করে মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৬ জন। ভূমিকম্পের প্রকৃত তীব্রতা কত ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অঞ্চলটি 'প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার'-এর অংশ হওয়ায় এখানে ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি রয়েছে, যা এই এলাকাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, ১৫০টিরও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য এই দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে, ফলে ধ্বংসযজ্ঞের সম্পূর্ণ চিত্র নির্ণয় করতে আরও সময় লাগবে।
ফ্লোরেসের বৃহত্তম শহর মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছে এবং একটি জাহাজের সঙ্গে সংযোগকারী পথ (গ্যাংওয়ে) ধসে পড়ে কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রে ছিটকে পড়েন। ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন। ওই প্রদেশের সিকা এলাকার উপকূলবর্তী তালিবুরা গ্রামের আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তোর মতো অনেকে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠেন। আমি যখন চমকে ঘুম থেকে উঠি, তখন আমার সন্তানের ঘরে যাই।’ বিএনপিবির পক্ষ থেকে জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলে আরও ২০টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনও জটিল।।