Published : 15 Aug 2026, 06:16 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বেড়াতে গিয়ে এক মারাত্মক হামলার শিকার হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা আসাদ খোকন। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি, ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর রাজবাড়িতে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। আসাদ খোকন নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গত বছরই তাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। আহত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে আসাদ খোকন জেলা শহর থেকে নৌকায় করে হরিপুর রাজবাড়িতে ভ্রমণ করেন। দুপুর বারোটার দিকে রাজবাড়িতে পৌঁছানোর পর তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন।
এরপর দুপুর দুটোর দিকে রাজবাড়ির সামনে তিতাস নদীতে গোসল করার সময় ২০-৩০ জন লোক এসে তাকে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। মারধরের পর তাকে রাজবাড়ির এক কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা অচেতন অবস্থায় তাকে নাসিরনগর সদরে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। নাসিরনগর থানার পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় রাখে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক নেতা দাবি করেছেন, এই হামলার পিছনে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছে। তারা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিরনগর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ইয়াসিন মাহমুদ।
এই বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন বলেন, 'স্থানীয়দের সাথে মতবিরোধের জের ধরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কোনো লোক এর সঙ্গে জড়িত নয়।' অন্যদিকে, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, 'এলাকার লোকজন আসাদ খোকনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং এই কারণেই তারা তাকে মারধর করেছে। তবে এই ঘটনায় তিনি কারো বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।'।