Published : 25 Jul 2026, 02:13 PM
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ পরবর্তী সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতির আসনে কে অধিষ্ঠিত হবেন—এই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও গণমাধ্যমে বিএনপির কিছু জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, দলটি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এই পরিস্থিতিতে, নতুন মুখ হিসেবে চমকপ্রদ কেউ আসতে পারে—এমন জল্পনা তীব্র হচ্ছে। আলোচনায় উঠে আসা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে মনে রাখতে হবে, এই নামগুলো এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন লাভ করেনি।
দল কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার কারণে এমন ধারণা জোরালো হয়েছে যে, অভিজ্ঞ রাজনীতিকের পরিবর্তে অপ্রত্যাশিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত এক শীর্ষ আমলার নামও সামনে এসেছে, যদিও সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের জটিলতার কারণে তার প্রার্থী হওয়া কঠিন হতে পারে। সংবিধানের ৪৮(৪)(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক চাকরি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ব্যক্তি তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। একইভাবে, এই ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও তিন বছরের অপেক্ষার বিধান প্রযোজ্য। ফলে আলোচিত আমলা যদি এখনো চুক্তিভিত্তিক পদে থাকেন বা নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হয়ে থাকে, তবে বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন।
বর্তমানে বিএনপি তাদের রাষ্ট্রপতির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি, তাই বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতির পরিচয় এখনও অনিশ্চিত। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংবিধান মেনে সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান দায়িত্ব হলো ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করবেন। সংবিধানের ৪৮(৪) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে ব্যক্তিকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।।
ধানমন্ডির পরিত্যক্ত সুধা সদন থেকে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার: মাদকাসক্তির শিকার কি এই যুবক?