Published : 09 Jul 2026, 01:11 AM
বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে (জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত) বিদেশি ঋণদাতাদের কাছে অতীতের ঋণের সুদ ও মূলধনসহ ৪১৩ কোটি ২৩ ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের সিংহভাগই বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপানের মতো ঋণদাতাদের কাছে জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদাসল পরিশোধের ভার বহন করতে হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই-মে মাসের বিদেশি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই ১১ মাসে বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা বিদেশি ঋণ শোধের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক। এছাড়াও, টাকার হিসাবে এই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকারও বেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান বাবদ প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার প্রবেশ করেছে। বহু বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায়, গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করা হয়েছিল। এবার ১১ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ এই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ শোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই গতি বজায় রাখতে হলে আগামী বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার অতিক্রম করতে পারে। ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সরকার বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ২৬৮ কোটি ৪৩ লক্ষ ডলার এবং সুদ বাবদ ১৪৫ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।
অন্যদিকে, এই সময়ে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণদাতাদের প্রতিশ্রুতিও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের এগারো মাসে বাংলাদেশ মোট ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। এই ১১ মাসে বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক (প্রায় ৯৬ কোটি ডলার), রাশিয়া (৯৩ কোটি ডলার), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (৭৮ কোটি ডলার), চীন (৫৩ কোটি ডলার), ভারত (২৫ কোটি ডলার) এবং জাপান (৪৩ কোটি ডলার)। সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে ঋণ ও অনুদান ছাড়াও বাজেট সহায়তা গ্রহণ করে। এছাড়াও, বেসরকারি খাতও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ লাভ করে।।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সংঘাত এড়িয়ে চলুন, নাহিদ ইসলামের দাবি